Dynamics Career - বাংলাদেশে ক্যারিয়ার, চাকরি ও শিক্ষা বিষয়ক সর্বশেষ তথ্য পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-৩ | ব্লগ
পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-৩
🗂️ Biology 2nd Paper 📅 2025-10-17 🏷️ জীববিজ্ঞান ২য় পত্র , তৃতীয় অধ্যায় 👁️ 44 Total 🔥 1 Today
Blog Image

(xiv) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অংশটি সঞ্চয়ী ভূমিকার পাশাপাশি বিপাকীয় ভূমিকাও অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ কর।

(xiv) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অঙ্গটি হলো যকৃত। যকৃত দেহের প্রধান সঞ্চয় কেন্দ্র। যকৃত সঞ্চয়ী কাজের পাশাপাশি বিপাকীয় কাজেও ভূমিকা রাখে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে। রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এ রূপান্তরিত হয়ে যকৃতের সঞ্চয়ী কোষে জমা থাকে।

রক্ত সঞ্চয়: প্লীহা ও অস্ত্র থেকে বেরিয়ে রক্তবাহিকাগুলো মিলিত হয়ে হেপাটিক পোর্টাল শিরা গঠন করে। যকৃতের ভিতরে দিয়ে রক্ত যদিও অনবরত প্রবাহিত হয় তারপরও এর রক্তবাহিকাগুলোসহ এ শিরা বিপুল পরিমাণ রক্তের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।

ভিটামিন সঞ্চয়: যকৃত স্নেহে (fat) দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B ও C), সায়ানো কোবালামিন (B12) এবং ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। B₁₂ এবং ফলিক এসিড অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা তৈরিতে প্রয়োজন হয়।

পিত্তরস উৎপাদন: যকৃত থেকে উৎপন্ন পিত্তরস যকৃতের ডান খণ্ডাংশের নিচে অবস্থিত পিত্তথলিতে জমা থাকে।

দেহের প্রয়োজনে চর্বি এবং অ্যামিনো এসিড ব্যবহারযোগ্য গ্লুকোজে পরিবর্তিত হয়।

মিনারেল সঞ্চয়: যকৃত লৌহ ও পটাসিয়াম সঞ্চয় করে।

যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:

যকৃত দেহের অভ্যন্তরীণ সাম্যাবস্থা বজায় রাখার প্রধান অঙ্গ। এতে নানা ধরনের জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয় যা দেহের বিপাক ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যকৃত শর্করা, আমিষ ও স্নেহবস্তু বিপাকের প্রধান স্থান। যকৃতে 'নিচে বর্ণিত বিপাকীয় কার্যাবলী সংঘটিত হয়।

শর্করা বিপাক: যকৃতে শর্করা জাতীয় খাদ্যের গ্লাইকোজেনেসিস ও গ্লুকোনিওজেনেসিস ঘটে। অন্ত্র থেকে শোষিত গ্লুকোজ পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে প্রবেশ করে। ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে যকৃতে গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা হয়।

প্রোটিন বিপাক: প্রোটিন বিপাকের ডি-অ্যামিনেশন প্রক্রিয়া যকৃতে সংঘটিত হয়। এছাড়া রক্তের প্লাজমার অন্যতম অত্যাবশ্যকীয় উপাদান প্লাজমা প্রোটিন অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন যকৃতে তৈরি হয়।

ফ্যাট বিপাক: যকৃত কোষ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর, রক্ত থেকে কোলেস্টেরল সরিয়ে নেওয়া, ভেঙে ফেলা বা প্রয়োজনে সংশ্লেষ করে। গ্লুকোজের ঘাটতি হলে শ্বসনের উদ্দেশ্যে যকৃত ফ্যাটকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

(xv) 'C' নিঃসৃত এনজাইম সব ধরনের খাবার পরিপাকে সহায়ক- বিশ্লেষণ কর।

(xv) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'C' চিহ্নিত অংশটি হলো অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয় আমিষ, শর্করা, স্নেহ সব জাতীয় খাবার পরিপাককারী এনজাইম নিঃসৃত করে পরিপাকে সাহায্য করে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

শর্করা পরিপাককারী এনজাইম ও তাঁদের কাজ:

a.   অ্যামাইলেজ এনজাইম স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন জাতীয় জটিল শর্করাকে মল্টোজে পরিণত করে।

b. মল্টেজ এনজাইম মল্টোজ জাতীয় শর্করাকে গ্লুকোজে পরিণত করে।

আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ও তাদের কাজ:

a. ট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।

b. কাইমোট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেটাইডে পরিণত করে।

c. কার্বক্সিপেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডের প্রান্তীয় লিঙ্কেজকে সরল পলিপেটাইডে ও অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করে।

d. অ্যামিনোপেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।

e. ট্রাইপেপটাইডেজ এনজাইম ট্রাইপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।

f. ডাইপেপটাইডেজ এনজাইম ডাইপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।

g. কোলাজিনেজ এনজাইম কোলাজেন জাতীয় প্রোটিনকে সরল পেপটাইডে রূপান্তরিত করে।

h. ইলাস্টেজ এনজাইম যোজক টিস্যুর প্রোটিন ইলাস্টিনকে ভেঙে পেপটাইড উৎপন্ন করে।

স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম ও তাদের কাজ:

a. লাইপেজ এনজাইম চর্বি (লিপিড) কে ভেঙে ফ্যাটি এসিডে রূপান্তরিত করে।

b. কোলেস্টেরল এস্টারেজ এনজাইম কোলেস্টরল এস্টারকে ফ্যাটি এসিডে বিশ্লিষ্ট করে।

 (xvi) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গের কার্যকারিতা স্নায়ুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল- বিশ্লেষণ কর।

(xvi) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলির কার্যকারিতা স্নায়ুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো: যেসব অঙ্গের উপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই সেগুলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। পাকস্থলি এরূপ একটি অঙ্গ। এর কার্যকারিতার উপর মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর কোনো প্রভাব না থাকায় এরা স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে আপন কাজ সম্পাদন করে। আমাদের গৃহীত খাবার যখন পাকস্থলিতে প্রবেশ করে তখন স্নায়বিক প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফলে এর পেশিবহুল দেয়াল ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হতে থাকে। ফলে নতুন গৃহীত খাবার পাকস্থলির প্রথম অংশে প্রবেশ করলে পূর্বের গৃহীত খাবার পরবর্তী অংশে অগ্রসর হয়। এতে করে পাকস্থলির দেয়াল ক্রমশ বাইরের দিকে প্রসারিত হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে ক্রমান্বয়ে আরও অধিক পরিমাণ খাবার পাকস্থলিতে ঢুকতে থাকে। এভাবে পাকস্থলি স্বাভাবিক চাপে ০.৮ থেকে ১.৫ লিটার পর্যন্ত খাদ্য উপাদান ধরে রাখতে পারে। এছাড়া পাকস্থলিতে স্বয়ংক্রিয় স্নায়বিক ক্রিয়ায় একটি পেরিস্টাটিক সংকোচনমূলক ঢেউ কাজ করে, যা পাকস্থলিতে জমে থাকা খাদ্যের মিশ্রণে সহায়তা করে। এভাবে স্বায়বিক ক্রিয়ার ফলে পাকস্থলির পেশি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্যবস্তুকে মন্ডে পরিণত করে।

(xvii) উদ্দীপকের 'B' অঙ্গটিকে জৈব রসায়নাগার বলা হয়- বিশ্লেষণ কর।

(xvii) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো যকৃত। দেহের বিপাক ক্রিয়ার জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো যকৃতে সম্পন্ন হয়।

যকৃত পিত্তরস নিঃসরণের মাধ্যমে পরিপাকে সাহায্য করে। এটি লবণ ও পানির সমতা বিধান করে। যকৃত কোষে গ্লাইকোজেন ও চর্বি জাতীয় খাদ্য, ভিটামিন (A) ও ভিটামিন (D) সঞ্চয় করে। রক্তের মধ্যস্থ অপ্রয়োজনীয় উপাদান অপসারণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপাদান ঘাটতি পূরণ করে থাকে। তাছাড়া অ্যামোনিয়া জাতীয় বিষাক্ত পদার্থকে কম ক্ষতিকারক ইউরিয়ায় পরিণত করে। লোহিত কণিকার ধ্বংসের মাধ্যমে পিত্তরঞ্জক বের করে দেয়। দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রক্ত জমাট বাধায় প্রোথ্রম্বিন ও ফাইব্রিনোজেন যকৃত থেকে নিঃসৃত হয়। যকৃত ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে। আয়ন সঞ্চয়ের মাধ্যমে যকৃত হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করে। যকৃতের পিত্তরস পৌষ্টিকনালিতে অম্লীয় পরিবেশ প্রশমিত করে এবং পৌষ্টিকনালির সংকোচন ও প্রসারণ ত্বরান্বিত করে। এসব কারণে যকৃতকে মানবদেহের জৈব রসায়নাগার বলে।

✍️ মন্তব্য করুন
Exam System